শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Shikkha Bichitra
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশজুড়ে | প্রাথমিক | শিক্ষা | শিক্ষাঙ্গন | শিশু কর্ণার » প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়বস্তু: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
প্রথম পাতা » দেশজুড়ে | প্রাথমিক | শিক্ষা | শিক্ষাঙ্গন | শিশু কর্ণার » প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়বস্তু: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
১০ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়বস্তু: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

---

 

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জীবনদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়ানোর লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমে বছরজুড়ে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় বা থিমকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রাথমিকের একজন শিক্ষার্থী শুধু বইনির্ভর জ্ঞান অর্জন করবে না; বরং কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে জীবন পরিচালনা করতে হয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে কীভাবে সামলে নিতে হয়, সেই বাস্তব জীবনদক্ষতাও অর্জন করবে।’

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে হেইলিবেরি ভালুকা ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের যৌথ আয়োজনে ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট’–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্রংগার টুগেদার, সেফার টুমরো—কিপিং চিলড্রেন সেফ ইন বাংলাদেশ’।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রম নতুন করে সংস্কারের কাজ চলছে। এ সংস্কারে ১২ মাসে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বছরের নির্দিষ্ট একটি মাসে যে থিমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, ওই মাসের বিভিন্ন বিষয়ের পাঠেও সেই থিমের সঙ্গে সম্পর্কিত উদাহরণ, সংখ্যা, প্রশ্ন ও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয়কে আরও সহজে সম্পর্কিত করতে পারবে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো মাসে যদি অগ্নিনিরাপত্তাকে থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও অগ্নিনিরাপত্তা–সম্পর্কিত উদাহরণ ও আলোচনা রাখা যেতে পারে। একইভাবে সড়ক নিরাপত্তা, পানিতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোও পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব পাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবে এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে শিক্ষা গ্রহণ করবে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনদক্ষতামূলক শিক্ষাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশের সব ধরনের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তা এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা তৈরির কাজ করছে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ।

হেইলিবেরি ভালুকা ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য দেন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের কান্ট্রি লিড সারওয়াত রেজা। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের উৎকর্ষের ধারণাকে শুধু একাডেমিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

হেইলিবারি ভালুকার ফাউন্ডিং হেডমাস্টার সাইমন ও’ গ্রেডি তাঁর বক্তব্যে শিশুদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর শৃঙ্খলাবিধান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হার কমে যাওয়া, অভিযোগ না জানানোর প্রবণতা এবং কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজসহ শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।