রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশজুড়ে | শিক্ষা | শিক্ষাঙ্গন » তদন্ত শেষ, তবু ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন নেই ডিআইএতে
তদন্ত শেষ, তবু ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন নেই ডিআইএতে

বেসরকারি এমপিওভুক্ত চার হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত ও নিরীক্ষা সম্পন্ন করেও প্রতিবেদন জমা দেননি শিক্ষা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের একটি অংশ। পাঁচ থেকে ১০ বছর আগে এসব তদন্ত শেষ হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক প্রতিবেদনের কোনো অগ্রগতি নেই। অভিযোগ উঠেছে, একশ্রেণির কর্মকর্তার ‘ঘুষ-বাণিজ্যের’ কারণে এসব তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখা হয়েছে।
ডিআইএ সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে ৪০ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলেও সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষাবিদরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিআইএর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিদপ্তরটির কর্মকর্তারা চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার কার্যক্রম অনলাইনে এবং অন্যগুলো সরেজমিনে সম্পন্ন হয়। পাঁচ থেকে ১০ বছর আগে তদন্ত ও নিরীক্ষা শেষ হলেও সেগুলোর অনেক প্রতিবেদন এখনো দাখিল হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়মে জড়িত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ডিআইএর একশ্রেণির কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে ঘুষ নিতেন।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন বলেন, ডিআইএর কয়েকজন পরিদর্শক তদন্ত শেষ করার পর প্রতিবেদন না দিয়েই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তাদের এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর কয়েকজন পুরোনো প্রতিবেদন হালনাগাদ করে জমা দিয়েছেন। বিষয়গুলো এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকে বর্তমানে অধিদপ্তরে কর্মরত নেই। বদলি হয়ে তারা অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ডিআইএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। অধ্যাপক মো. আফলাতুন বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের অনেক প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন, যেগুলো আগে জমা দেওয়া হয়নি। সেগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও জানানো হয়েছে, একাধিকবার অডিট হলেও সংশ্লিষ্ট অডিটররা প্রতিবেদন তৈরির জন্য সময় দেননি। ফলে সরেজমিনে অডিট সম্পন্ন করার পরও প্রতিবেদন জমা হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব প্রতিবেদন আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক ইত্তেফাককে বলেন, এখানে অবশ্যই লেনদেনের বিষয় ছিল এবং এর অঙ্কও বড় হওয়ার কথা। তা না হলে তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে জমা পড়ত এবং অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। দীর্ঘদিন প্রতিবেদন না আসায় আগে থেকে প্রচলিত যে ধারণা ছিল, এ ঘটনা সেটিকেই আবার সামনে এনেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা ও অনিয়মের তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিআইএর বহু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমেই পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব পাঠদান হলেও সেই দায়িত্বের বাইরে ডিআইএতে পদায়ন পাওয়ার জন্য অনেকের আগ্রহ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ, সেখানে দায়িত্ব পাওয়া মানেই বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ—এমন ধারণা রয়েছে। তৃণমূলের শিক্ষকদের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়কে কাজে লাগিয়ে ডিআইএর পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের সনদসহ বিভিন্ন নথিতে কী ধরনের অনিয়ম রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে ঘুষের পরিমাণ নির্ধারণ করা হতো বলে অভিযোগ। কখনো একবারে, আবার কখনো কিস্তিতে অর্থ নেওয়া হতো। অনিয়মের মাত্রা কম হলে এক মাসের এমপিওর সমপরিমাণ এবং বেশি হলে তার চেয়েও বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে অনিয়ম না থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীর এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ডিআইএর মূল দায়িত্বের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক বিষয় নিরীক্ষার পাশাপাশি জাল সনদ শনাক্ত করাও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিদর্শকদের একটি অংশ নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম ও জাল সনদ শনাক্ত করার বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিতেন। কারণ এসব ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ ও ঘুষের অঙ্ক তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। গত এক দশকে ডিআইএতে এমন ১০ সহস্রাধিক ফাইলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তারা ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য গত ২০ আগস্ট ৪০ পরিদর্শককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।






দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ বিরতি, কলেজে টানা ছুটি ১৬ দিন পর্যন্ত
বিদেশে অর্থ পাঠানোর বিধান এক নথিতে সংকলন করল বাংলাদেশ ব্যাংক
এআই-সেমিকন্ডাক্টর-রোবোটিকসে তরুণদের গবেষণায় নীতিগত সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ, সচেতনতার ওপর গুরুত্ব
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি বাড়ল ৫৭ শতাংশ, বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ
বগুড়ায় ‘বিনিয়োগকারী রোড শো ২০২৬’, শিল্পায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল
৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ, শুরু ডিসেম্বরের মধ্যে
ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়ে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
একাদশে ভর্তির জন্য চূড়ান্ত ৮ লাখ ৫৩ হাজার শিক্ষার্থী, খালি ৬৭% আসন 