শিরোনাম:
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Shikkha Bichitra
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশজুড়ে | স্বাস্থ্য » মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারে তৃণমূল পর্যায়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রথম পাতা » দেশজুড়ে | স্বাস্থ্য » মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারে তৃণমূল পর্যায়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
২৭ বার পঠিত
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারে তৃণমূল পর্যায়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

---

 

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবহেলা কিংবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, সুস্বাস্থ্য বলতে শুধু শারীরিক রোগমুক্তিকে বোঝায় না; এর সঙ্গে মানসিক, আত্মিক ও সামাজিক সুস্থতাও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মানসিক সুস্থতার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। প্রতিপাদ্যটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বহন করে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় নয়; মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ কারণে মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সমস্যায় থাকা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁদের পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাঁরা জীবনযাপন করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সমান গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। তবে সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার ঘাটতি, পর্যাপ্ত সেবার অভাব এবং প্রশিক্ষিত জনবলের স্বল্পতার কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পান না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা, মান ও কার্যকর সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া, সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ খাতের পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গর্ভবতী নারীদের মানসিক সুস্থতা, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সেবা কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষের কথা আন্তরিকভাবে শুনতে হবে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের সব পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন একটি সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে মানুষ দ্বিধা করবে না এবং সহায়তা চাইতে লজ্জা বা সংকোচ অনুভব করবে না। কেউ যেন নিজেকে একা, অবহেলিত কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমুখী, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ মর্যাদা, আশা ও সম্ভাবনা নিয়ে সুস্থ ও অর্থবহ জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।

বাণীর শেষাংশে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দিবসটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।

 



এ পাতার আরও খবর

ভবিষ্যৎ শিক্ষায় প্রযুক্তি ও এআই জ্ঞান অপরিহার্য: অর্থমন্ত্রী ভবিষ্যৎ শিক্ষায় প্রযুক্তি ও এআই জ্ঞান অপরিহার্য: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম গড়ার তাগিদ ববি হাজ্জাজের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম গড়ার তাগিদ ববি হাজ্জাজের
তদন্ত শেষ, তবু ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন নেই ডিআইএতে তদন্ত শেষ, তবু ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন নেই ডিআইএতে
দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ বিরতি, কলেজে টানা ছুটি ১৬ দিন পর্যন্ত দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ বিরতি, কলেজে টানা ছুটি ১৬ দিন পর্যন্ত
বিদেশে অর্থ পাঠানোর বিধান এক নথিতে সংকলন করল বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে অর্থ পাঠানোর বিধান এক নথিতে সংকলন করল বাংলাদেশ ব্যাংক
এআই-সেমিকন্ডাক্টর-রোবোটিকসে তরুণদের গবেষণায় নীতিগত সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর এআই-সেমিকন্ডাক্টর-রোবোটিকসে তরুণদের গবেষণায় নীতিগত সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ, সচেতনতার ওপর গুরুত্ব বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ, সচেতনতার ওপর গুরুত্ব
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি বাড়ল ৫৭ শতাংশ, বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি বাড়ল ৫৭ শতাংশ, বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ
বগুড়ায় ‘বিনিয়োগকারী রোড শো ২০২৬’, শিল্পায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল বগুড়ায় ‘বিনিয়োগকারী রোড শো ২০২৬’, শিল্পায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আর্কাইভ