সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
প্রথম পাতা » বিদেশে উচ্চশিক্ষা | বৃত্তি » মাস্টার্সের কমনওয়েলথ ২০১৯ স্কলারশিপের জন্য আবেদন
মাস্টার্সের কমনওয়েলথ ২০১৯ স্কলারশিপের জন্য আবেদন

মাস্টার্সের স্কলারশিপের জন্য কমনওয়েলথ ২০১৯ সালের জন্য আবেদন গ্রহণ করা শুরু করেছে। মাস্টার্সের জন্য কমনওয়েলথের এই স্কলারশিপটির অর্থ প্রদান করে থাকে ইউকে ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
মূলত কমনওয়েলথভুক্ত মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশের যেসকল মেধাবী শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে অক্ষম, তাদেরকে এই স্কলারশিপটি দেয়া হয়ে থাকে। সংকট মোকাবিলায় এবং স্থিতিশীলতায় শক্তিশালীকরণের জন্য কমনওয়েলথ একটি স্বেচ্ছাসেবক প্রতিষ্ঠান, যা ৫৩টি স্বাধীন রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়েছে।
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ সাধারণত ৬টি থিমের উপর ভিত্তি করে দেয়া হয়ে থাকে-
১. সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ফর ডেভেলপমেন্ট বা উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যেকোন ক্ষেত্রে, যেমন কৃষি, পশু চিকিৎসা বিজ্ঞান, ফরেস্ট্রি বা বন বিদ্যাসহ জাতীয় যেকোনো চাহিদার সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে এই ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ দেয়া হয়ে থাকে।
২. স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও ক্ষমতা শক্তিশালীকরণ
মধ্যম এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর যেসকল জনগণ সঠিক স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেনা, বা স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতন। তাদেরকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে এই ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে।
৩. বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি প্রচার
নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় সমৃদ্ধির জন্য এই ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ হয়ে থাকে। যেন শিক্ষার্থীরা জাতীয় উন্নয়নে; যেমন: অর্থনীতি, বাণিজ্য বা আর্থসামাজিক উন্নয়নে দেশের জন্য কাজ করতে পারে।
৪. বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও শাসনকে শক্তিশালীকরণ
জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সাধারণত এই ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে।
৫. সংকটে স্থিতিশীলতা ও মোকাবিলা করা
এই ক্যাটাগরির স্কলারশিপটি মূলত দেশের জন্য আন্তর্জাতিক হুমকি মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন মহামারী মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য।
যেন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তার দেশের জন্য যেকোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অবদান রাখতে পারে।
৬. সুযোগ ও অন্তর্ভুক্তিতে প্রবেশ
এই ক্যাটাগরি স্কলারশিপ মূলত প্রদান করা হয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিভিন্ন অসুবিধা, অর্থনৈতিক সমস্যা, লিঙ্গ বৈষম্য, জাতিগত আঞ্চলিক বৈষম্য, রাজনৈতিক সহিংসতাসহ জাতীয় বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় দক্ষ করে তোলার জন্য।
আবেদনের যোগ্যতা
নিম্ন বা মধ্যম আয়ের কমনওয়েলথভুক্ত যেকোনো দেশের নাগরিক বা শরণার্থী হতে হবে।
কমনওয়েলথভুক্ত যেকোনো দেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, অর্থাৎ সে দেশের নাগরিক হতে হবে।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর/অক্টোবর ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
সাধারণত দ্বিতীয়বার মাস্টার্সের জন্য এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয় না। যদি আপনি দ্বিতীয়বারের মতো মাস্টার্সের জন্য আবেদন করতে চান, তাহলে তাদেরকে সম্পূর্ণ বিষয়টির কারণ দর্শাতে হবে।
এই স্কলারশিপ ছাড়া যুক্তরাজ্যে স্টাডি বা পড়াশোনা করা সম্ভব না।
বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত যেকোনো দেশের নাগরিক এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।
কমনওয়েলথ স্কলারশিপের সুযোগ-সুবিধাসমূহ
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিটসহ সমস্ত যাতায়াতের খরচ কর্তৃপক্ষ বহন করবে। তবে ফান্ড নিশ্চিত হওয়ার আগে কোন যাতায়াতের খরচ স্কলারশিপের আওতাভুক্ত হবে না। আবেদনকারীর কোন অতিথির যাতায়াতের খরচ প্রদান করা হবে না।
লন্ডনের ভেতরে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলে প্রতি মাসে ১,৩৩০ পাউন্ড, তাছাড়া লন্ডনের বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করলে প্রতি মাসে হাজার ১,০৮৪ পাউন্ড প্রদান করা হবে।
শীতের পোশাকের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ দেয়া হবে।
গবেষণার জন্য একটি গবেষণা ফি প্রদান করা হবে (প্রয়োজন হলে)।
বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত হলে অথবা সন্তানের খরচ যদি উক্ত প্রার্থীকে একাই বহন করতে হয়, তাহলে প্রতি মাসে প্রথম সন্তানের জন্য ৪৬৫ পাউন্ড শিশু ভাতা হিসেবে প্রদান করা হবে। যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ১১৪ পাউন্ড প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে সন্তানের বয়স অবশ্যই ১৬ বছরের কম হতে হবে এবং যুক্তরাজ্যের ভেতরে একই ঠিকানায় সন্তানদের সাথে নিয়ে বসবাস করতে হবে।
আবেদন করার পদ্ধতি
যুক্তরাজ্যের যেসকল বিশ্ববিদ্যালয় কমনওয়েলথের এই স্কলারশিপের সাথে চুক্তিবদ্ধ, সেসকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সিএসসি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে। অথবা আপনি সরাসরি সিএসসি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে আবেদন করতে পারেন। তবে অনলাইন ব্যতীত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
যত দ্রুত সম্ভব অনলাইনে আবেদন করার জন্য কর্তৃপক্ষ আহ্বান করেছে। কেননা পরবর্তীতে সার্ভার অনেক ব্যস্ত থাকে, তাই আবেদনকারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নাগরিকত্ব বা উদ্বাস্তু হওয়ার প্রমাণ অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমে আপলোড করে দিতে হবে।
উচ্চ শিক্ষার সমস্ত কাগজপত্রসহ একাডেমিক সকল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমে আপলোড করে জমা দিতে হবে।
সিএসসি অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের বাহিরে কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। সকল কাগজপত্রের স্ক্যান কপি ৫ এমবির বেশি হতে পারবে না।
PDF, .doc, .docx, .odt, .jpg, .jpeg ব্যতীত অন্য যেকোনো ফরম্যাট বাতিল বলে গণ্য হবে।
প্রসঙ্গত, কমনওয়েলথের প্রায় এক তৃতীয়াংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ছোট রাষ্ট্র ও দ্বীপ দেশ নিয়ে গঠিত। ১৯৯৭ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ ডিএফআইডি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মূলত চরম দারিদ্র্যের অবসান ঘটানোর জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি দারিদ্রতা, চিকিৎসাহীনতা, অভিবাসন সংকট, নিরাপত্তা সংকট এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। মূলত তারা আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোর জন্য তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে থাকে।






যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে নতুন চাপ, ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব
নেদারল্যান্ডসে স্নাতকোত্তরে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি, আবেদন শেষ ১ ফেব্রুয়ারি
তাইওয়ানে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ, বছরে মিলবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার এনটিডি
নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ বাড়ছে, আসছে নতুন ভিসা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী বেড়েছে পাঁচ গুণ
হার্ভার্ড একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রামে আবেদন, বছরে ৮০ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড
রাশিয়ার শিক্ষা ভিসা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে নির্দেশনা
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ওয়েবিনার
নর্দান ইউনিভার্সিটির ২২ শিক্ষার্থী পেলেন চীন সরকারের শিক্ষাবৃত্তি
কানাডায় স্কলারশিপের সুবিধা নিয়ে পড়তে চাইলে 