শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Shikkha Bichitra
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » তথ্য-প্রযুক্তি » অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে মেটার নতুন এআই এজেন্ট ‘মিউজ’
প্রথম পাতা » তথ্য-প্রযুক্তি » অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে মেটার নতুন এআই এজেন্ট ‘মিউজ’
৫ বার পঠিত
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে মেটার নতুন এআই এজেন্ট ‘মিউজ’

---

 

বাজারে উন্মোচনের পর দুই সপ্তাহও পেরোয়নি। এরই মধ্যে অ্যাপ স্টোরের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে মেটার নতুন পার্সোনাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট টুল ‘মিউজ’। অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাপটি প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার ‘মিউজ’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল আইওএস অ্যাপ স্টোরের ফ্রি স্মার্টফোন ক্যাটেগরিতে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, পলিমাকেট ও কাশির মতো জনপ্রিয় পরিষেবাগুলোকে ছাড়িয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের ক্লড, স্পেসএক্সএআইয়ের গ্রক এবং ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার নিজস্ব ‘মেটা এআই’ অ্যাপের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে মিউজ।

অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘সেন্সর টাওয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসার পর প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যেই মিউজ প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার বার ডাউনলোড হয়েছে।

শুক্রবার আইওএসের ফ্রি অ্যাপের তালিকায় চ্যাটজিপিটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে আসে অ্যাপটি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির তথ্য বলছে, সোমবার পর্যন্ত মিউজের মোট ডাউনলোডের সংখ্যা ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

সেন্সর টাওয়ার জানিয়েছে, বাজারে আসার পর প্রথম ১৩ দিনের হিসাবে ক্লাউড ও গ্রকের তুলনায় মিউজ বেশি ডাউনলোড পেয়েছে। একই সময়ে ক্লাউডের ডাউনলোড ছিল ৪ লাখ এবং গ্রকের ২ লাখ। তবে একই সময়ে চ্যাটজিপিটির ডাউনলোড ছিল ৩১ লাখ।

এসব অ্যাপের প্ল্যাটফর্ম রিলিজ অ্যাপল ও গুগল প্লে স্টোরে ধাপে ধাপে হয়েছে। ফলে সব অ্যাপের মোট ডাউনলোড সংখ্যার ওপর এ বিষয়টির প্রভাব পড়েছে।

সেন্সর টাওয়ারের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ স্টোর থেকে মিউজ যথাক্রমে প্রায় ১৫ লাখ ও ১১ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে।

ইলেকট্রনিক ফর্ম পূরণ কিংবা ইমেইল ইনবক্স সাজানোর মতো ওয়েবভিত্তিক বিভিন্ন কাজ ব্যবহারকারীর হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে এমন একটি সুপারচার্জড ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট হিসেবে মিউজকে বাজারে এনেছে মেটা।

মেটার নিজস্ব ‘মিউজ স্পার্ক’ এআই মডেল পরিবারের ভিত্তিতে তৈরি এই অ্যাপকে সিইও মার্ক জাকারবার্গের এআই এজেন্ট বাজারে প্রবেশের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে ডেভেলপার ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ফ্রি-টু-ইউজ ‘ওপেনক্ল ক্লড’ টুলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর মেটাও এ খাতে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।

সোমবার সিএনবিসির ‘স্কোয়াক অন দ্য স্ট্রিট’ অনুষ্ঠানে ‘বার্নস্টাইন’-এর বিশ্লেষক স্টেসি রাসগন বলেন, “আমার মনে হয়, এতদিন পর্যন্ত এআই এজেন্টগুলোর ব্যবহার মানুষের নাগালে ছিল না। তবে এখন মেটার মিউজ ও অন্যান্য এজেন্ট বাজারে আসায় এগুলো বড় পরিসরে মানুষের ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”

মিউজকে ঘিরে সাফল্যের প্রভাব পড়েছে মেটার শেয়ারবাজারের অবস্থানেও।

সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়েলস ফার্গো’ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৯৬ ডলারে পৌঁছেছে।

ব্যবহারকারীরা মিউজ অ্যাপটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারলেও ব্যবহারের পরিধি অনুযায়ী প্রতি মাসে ২০ ডলার বা ১০০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজও দিচ্ছে মেটা।

কোম্পানিটির মূল অনলাইন বিজ্ঞাপন ব্যবসার বাইরে এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করাও মেটার বড় কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে মেটার মিউজ অ্যাপের যাত্রা শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এআই নিরাপত্তা ও সাইবার সিকিউরিটি ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কারণে শিশু ও টিনএজারদের ক্ষতির মিথ্যা দাবির অভিযোগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোটের করা মামলায় সম্প্রতি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে মেটা।

ওপেনএআইয়ের সোরা কিংবা মেটার নিজস্ব ‘ভাইবস’ এআই ভিডিও টুলের মতো অন্য এআই পরিষেবাগুলো বাজারে আসার পর শুরুতে ব্যাপক সাড়া ফেললেও পরবর্তী সময়ে সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি।

মিউজের এই সাফল্য দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েও এখনো সংশয় রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার পর মেটার নিজস্ব এআই অ্যাপের ডাউনলোড বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল ভাইবস টুলটি।

ব্যক্তিগত তথ্যনির্ভর ‘মিউজ’ অ্যাপটি দীর্ঘমেয়াদে মেটাকে কোনো আইনি বা নৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্লেষক রাসগন বলেন, “তারা নিরাপত্তার বিষয়টি হয়ত গুরুত্ব দেয় তবে প্রাইভেসির প্রতি তারা কতটা যত্নশীল তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।”

এদিকে এআই এজেন্টগুলোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও। ব্যক্তিগত তথ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন তাদের শপিং সাইটে মিউজ অ্যাপের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে।

অ্যামাজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিউজ তাদের স্টোরে প্রবেশ করবে—এমন কোনো আগাম সতর্কতা তাদের দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আরও কয়েকটি উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যামাজনের ভাষ্য, এআই এজেন্টটি শপিং এক্সপেরিয়েন্সের সঙ্গে যুক্ত পারসোনালাইজেশন ও অন্যান্য ফিচারগুলো এড়িয়ে যায়।

এ ছাড়া মিউজ ব্যবহারকারীদের ক্রেডেনশিয়াল বা পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করছে এবং অ্যাকাউন্টের তথ্যও সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ করেছে কোম্পানিটি।

এক বিবৃতিতে অ্যামাজনের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা মনে করি, বিষয়টি স্পষ্ট যে, যেসব থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশন অন্য ব্যবসার পক্ষে গ্রাহকদের হয়ে কেনাকাটা সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয় তাদের উচিত স্বচ্ছতা ধরে রাখা ও কোনো প্ল্যাটফর্ম এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় কি না সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো।”

অ্যামাজনের এই পদক্ষেপের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট গিকওয়্যার। তবে অ্যামাজনের বিপরীত অবস্থানের মধ্যেই মেটার সঙ্গে কাজ করছে স্পটিফাই।

সোমবার এক ঘোষণায় প্লাটফর্মটির সিইও টোবিয়াসের লুৎকে জানান, তাদের অনলাইন স্টোরগুলোতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটার সুবিধা চালুর জন্য মিউজের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে স্পটিফাই।

 



আর্কাইভ