বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রবাস » তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড
তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্কট ম্যাকডোনাল্ড। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। শিক্ষা, ইংরেজি ভাষা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করাই তাঁর এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
সফরকালে ঢাকা ও রাজশাহীতে সরকারের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, তরুণ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন স্কট। একই সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিভিন্ন অংশীদারত্বমূলক প্রকল্পের কার্যক্রম ও সেগুলোর প্রভাব সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।
শিক্ষা খাতের সংস্কার, বিদ্যালয় ব্যবস্থার উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং তরুণদের অংশগ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনাও সফরে গুরুত্ব পাবে।
সফরের প্রথম দিন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্কট। বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে দেশের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের অংশীদার টেন মিনিট স্কুলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ইংরেজি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল্যায়ন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এরপর যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা সম্পন্ন করা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্কট। এ সময় ‘কানেক্টিং পিপল, শেয়ারিং ইমপ্যাক্ট: ব্রিটিশ কাউন্সিল গ্র্যান্টি অ্যান্ড ইউকে অ্যালামনাই শোকেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁদের বিভিন্ন কাজ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ ও জ্ঞান বিনিময় আরও গভীর করতে তাঁদের কার্যক্রমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
সফর সম্পর্কে স্কট ম্যাকডোনাল্ড বলেন, “বাংলাদেশে ১৯৫১ সাল থেকে কাজ করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এই সম্পর্কগুলো কীভাবে বিকশিত হয়েছে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। একই সঙ্গে যাঁরা এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিচ্ছেন—অংশীদার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, তরুণ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরাসরি তাঁদের অভিজ্ঞতা শুনতেও ভালো লাগছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ এবং এখানকার তরুণদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক উদ্যম। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে আমি আগ্রহী। দুই দেশের অভিজ্ঞতা ও ধারণাকে একত্রে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মানুষের শেখা এবং যৌথভাবে কাজ করার আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।’
সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীও যাবেন স্কট ম্যাকডোনাল্ড। সেখানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, তরুণ, শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
রাজশাহীর হেলেনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করবেন স্কট। তাঁর সফর উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ইংলিশ টিচার্স নিডস ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ ও হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশের ৬৪১ জন শিক্ষকের সাক্ষাৎকার এবং ৩২টি শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে শিক্ষকদের পেশাগত শিক্ষার চাহিদা, তাঁদের দক্ষতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের চলমান উদ্যোগগুলো। এসব উদ্যোগের মধ্যে প্রায় ১৭০০ জন মাস্টার ট্রেইনারের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিও রয়েছে।
রাজশাহীতে স্কট প্রজেক্ট হেডওয়ের নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। সেখানে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের পাশাপাশি আইইএলটিএস, ব্রিটিশ কারিকুলামভিত্তিক শিক্ষা এবং ইংরেজি ভাষার মূল্যায়ন কার্যক্রমে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
পরে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো জাদুঘর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর পরিদর্শন করবেন স্কট। সেখানে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ডের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি।
এ ছাড়া ‘ইয়ুথ কানেক্ট: ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মিসইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন স্কট। প্রকল্পটির আওতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০ জন তরুণকে ডিজিটাল নাগরিকত্ব এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত ও মোকাবিলার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কমিউনিটিতেও প্রয়োগ করেছেন।
রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘তবুও জেগে উঠি’ (স্টিল আই রাইজ) নাটকের পরিবেশনাও উপভোগ করবেন স্কট। স্পর্ধা ইন্ডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ নাটকটি মঞ্চস্থ করবে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হচ্ছে।
ঢাকায় ফিরে উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ২১০টির বেশি অংশীদার স্কুলের নেটওয়ার্ক নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন স্কট। তিনি হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) অংশীদারত্ব নিয়ে আয়োজিত একটি অংশীজন সভায় যোগ দেবেন। এ ছাড়া ব্রিটিশ কাউন্সিল পার্টনার স্কুলস প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬-এও অংশগ্রহণ করবেন তিনি।






টোকিওতে বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে সেমিনার, সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা
তাইওয়ানে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ, বছরে মিলবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার এনটিডি
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি বাড়ল ৫৭ শতাংশ, বিদেশযাত্রার খরচে নতুন চাপ
দক্ষতা ছাড়া বিদেশে নয়
জাপানে প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশিদের চাহিদা বাড়ছে: রাষ্ট্রদূত 